সবুজ শ্যামল নদীমাতৃক সোনায় খচিত আমাদের এই ষড়ঋতুর দেশে বিদেশি শক্তির কুটিল দৃষ্টি যেন হিংস্র শকুনের অভিশপ্ত দৃষ্টিতে অপলক চেয়ে আছে। দেশের ভেতর থেকেই তৈরি করছে নিকৃষ্ট হায়েনার কালো থাবা, বুনছে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা।
এমনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ দেন এক সেমিনারে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর চারদিকে শত্রু পরিবেষ্টিত।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের এক সেমিনারে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি আরও বলেন, ১১ দল তারেক রহমানের শত্রু নয়, বরং তার বন্ধু। যে কারণে দেশের মঙ্গলের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন অলি আহমেদ।
এছাড়া অলি আহমেদ সরকারের ভেতরে ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, যারা বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে দেশের ভেতরে কাজ করছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, কাদের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছেন? তাহলে কি প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশেই রয়েছে তাকে হত্যার পরিকল্পনাকারী সেই কালসাপেরা? নাকি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব পদ দখল করে রেখেছে দেশপ্রেমের মুখোশধারী সেই হায়েনারা? এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে।
এসব প্রশ্নের উত্তর খানিকটা আঁচ পাওয়া যায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিও বিশ্লেষণ থেকে। যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে এক রহস্যজনক তথ্য দেন।
জানা যায়, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশের এয়ারফোর্সের চট্টগ্রাম ও যশোরের বিমানঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে দুজন অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া অন্তত দশজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। অপরদিকে ৯ থেকে ১০ জন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, টিটিপির তৈরি একটি গোষ্ঠী, যা মূলত ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী র-ই তৈরি করেছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে রাখার জন্য। এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসাইন বলেন, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান হচ্ছে র-এর তৈরি করা আফগানিস্তানের একটি বাহিনী। তিনি আরও দাবি করেন, এই টিটিপি তালেবানেরই একটি অংশ, যাদেরকে ‘র’ অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করে।
এখন প্রশ্ন ওঠে, হঠাৎ র-এর পালিত এই জঙ্গি গোষ্ঠীর বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে উৎপত্তি কেন? কী রয়েছে এর নেপথ্যে? বিশ্লেষকদের দাবি, র মূলত বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এই টিটিপির সদস্যদের অনুপ্রবেশ করিয়েছে একটি গোপন মিশনে। যে মিশন সফল হলে ভারতের গলার কাঁটা নেমে যাবে। অপরদিকে রক্তখেকো সংগঠন আওয়ামী লীগের রাস্তাও দেশের রাজনীতিতে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন আরও বলেন, ভারতের এক সাংবাদিক এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বলেছিলেন, তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে যে কথা দিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন, সেই কথা রাখেননি।
মূলত ভারতের সঙ্গে তারেক রহমানের কী কথা হতে পারে, তার ইঙ্গিত দেন ইলিয়াস হোসাইন।
কিন্তু তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। তার একটি প্রমাণ, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে আইনে পরিণত করা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো চীনের সঙ্গে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারেক রহমানের উদ্যোগ ভারতের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ তৈরি করেছে।
মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চুক্তি ভারতকে কোণঠাসা করায় দেশটি যেকোনো উপায়ে তারেক রহমানকে সরিয়ে দিতে চাইতে পারে। এমনটাই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
এক্ষেত্রে বিএনপির মধ্যেই একদল ভারতকে সহায়তা করতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন ইলিয়াস হোসাইন।
তথ্য বলছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা নতুন নয়। বরং এই শঙ্কা এখন বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। তার বাসভবন নিয়েও রয়েছে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা। কেননা তারেক রহমানের বাসভবনটি ১৯৮১ সালের ৩১ মে জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর নির্মিত হয়েছিল। ভবনটি বেশ পুরোনো হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদিও ইতোমধ্যে বাসভবনটিকে কেপিআই ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে তারেক রহমানের বাসভবন গুলশানের ওই এলাকা আবাসিক এলাকা হওয়ায় কেপিআই ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও নিরাপত্তাজনিত এলাকা এবং বাসভবনে থাকা উচিত বলে তাদের মত।
তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার জন্যও তার কাছের মানুষদের দায়ী করা হয়। সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অদৃশ্য চাপা উত্তেজনা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হতে পারে ভবিষ্যতে তারেক রহমানের প্রাণনাশের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
আরও পড়ুন:








