বৃহস্পতিবার

৯ জুলাই, ২০২৬ ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

পাকিস্তানের সাথে সামরিক চুক্তির দাবি জনগণের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৯

শেয়ার

পাকিস্তানের সাথে সামরিক চুক্তির দাবি জনগণের
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

ঢাকা-ইসলামাবাদ বৈঠক ঘিরে নেটিজেনদের তুমুল প্রশংসা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে অভূতপূর্ব ইতিবাচক সাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বসেছিল ঢাকা-ইসলামাবাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক হাই-ভোল্টেজ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যৌথ ভূমিকার মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পায়।

বৈঠকে আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নগর নিরাপত্তা। পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি প্রধান শহরে সফলভাবে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ মডেলের কারিগরি ও কৌশলগত অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

পাশাপাশি, মাদক ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার রোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া, পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ‘সিএনআইসি’ তথা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির মানবিক সংকটটি দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে, দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই শীর্ষ বৈঠককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের নেটিজেন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন ইতিবাচক সাড়া। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি একটি পোস্টের মাধ্যমে জানানোর পর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের স্বার্থে পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা ও সামরিক চুক্তি করার জোরালো দাবি তুলেছে অনেকেই।

মিনারুল মিনার নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে চীন, পাকিস্তান এবং তুরস্কের সাথে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হবে। মো. নাজম আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক যত ভালো হবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি তত মজবুত হবে। বখতিয়ার হোসেন সাগর তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের সাথে সামরিক, অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক চুক্তিও করা উচিত।

জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা কেবল সাধারণ সম্পর্কের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে কৌশলগত অংশীদারিত্বের দাবিতে। ফেসবুক ব্যবহারকারী পাপেল মাহমুদ, মো. আবুল হোসেন এবং মিয়া মুহাম্মদ আওলাদ আমিন তাদের পৃথক মন্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সাথে একটি শক্তিশালী সামরিক চুক্তি করা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, গিয়াস উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের এই গতিশীলতা হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই দুই দেশের বরফ গলতে শুরু করে। সমুদ্রপথে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া, প্রতিরক্ষা খাতে প্রচ্ছন্ন ও বাস্তবমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানি বন্দরে উষ্ণ আতিথেয়তার মধ্য দিয়ে সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষা করিডোর ঘোষণা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ শিক্ষা বৃত্তি এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় দশক পর স্বরাষ্ট্র পর্যায়ে দুই দেশের এই সফল ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জনমতের এই অভূতপূর্ব জোয়ার দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করল।



banner close
banner close