বৃহস্পতিবার

৯ জুলাই, ২০২৬ ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২৫

শেয়ার

সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশজুড়ে সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করলে একটি গাছ লাগিয়ে সেই জন্ম উদযাপন করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী-খাল রক্ষা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তব্যের শুরুতে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাই পরিবেশ, গাছপালা, নদী-নালা ও সব জীবের সুরক্ষা মানুষের দায়িত্ব। বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে, বাস্তুতন্ত্র ও মানবসমাজের সম্পর্ক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের সবুজ বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক, এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন এগিয়ে যেতে পারে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ, এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী পরিবেশে উপযুক্ত প্রজাতির গাছ রোপণ করতে হবে। ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো দ্রুত বর্ধনশীল গাছের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। দেশীয় ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বন বিভাগকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

নদী ও জলাভূমি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী রক্ষা করা না গেলে কৃষি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি জানান, সরকার ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএসভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী ও খালের তীর সবুজায়ন এবং ইকো-ট্যুরিজমকে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। পাশাপাশি সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এ কারণে পরিবেশ সংরক্ষণকে সরকার জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং 'রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল (3Rs)' নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী-জলাভূমি ভরাট ও বন উজাড়ের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর না হওয়ার এবং কুকুর-বিড়ালসহ সব প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষে জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।



banner close
banner close