বৃহস্পতিবার

৯ জুলাই, ২০২৬ ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

হাইকোর্টের রায় বহাল, সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৭

শেয়ার

হাইকোর্টের রায় বহাল, সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
ছবি সংগৃহীত

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত বুধবার পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আদালত ৯ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। একই বছরের ৩ নভেম্বর রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল দায়ের করেন। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের আস্থা তৈরি হয়নি।

রায়ে আরও বলা হয়, জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আদালতের মতে, এসব বিধান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

গণভোট প্রসঙ্গে আদালত বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়েছিল পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারার মাধ্যমে। ওই ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর অধীনে ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান পুনর্বহাল হয়েছে।

তবে আদালত স্পষ্ট করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি। অবশিষ্ট বিধানগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন আনতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়, শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় একাধিক সংযোজন, সংশোধন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়।



banner close
banner close