বৃহস্পতিবার

৯ জুলাই, ২০২৬ ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

৯ জুলাই আন্দোলন; ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মধ্যেই দেশজুড়ে গণসংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ০৮:০৭

শেয়ার

৯ জুলাই আন্দোলন; ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মধ্যেই দেশজুড়ে গণসংযোগ
ছবি সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের নবম দিনে কৌশলে পরিবর্তন আনে আন্দোলনকারীরা। টানা দুই দিনের বাংলা ব্লকেডের পর এদিন সড়ক অবরোধ না করে গুরুত্ব দেওয়া হয় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও দেশজুড়ে গণসংযোগে। একই সঙ্গে শুরু হয় আরও বড় কর্মসূচির প্রস্তুতি।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ৯ জুলাই মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

দিনভর কর্মসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখান থেকে পরদিন ১০ জুলাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে সর্বাত্মক বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেন অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথজুড়ে বাংলা ব্লকেড পালন করা হবে। কর্মসূচি শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে, এরপর আন্দোলনকারীরা শাহবাগে গিয়ে অবরোধে অংশ নেবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে নামলেও সরকারের নীরবতা তাদের আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পুরো কোটা বাতিল নয়, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ কোটা রেখে বাকি কোটা বাতিলের দাবি তাদের।

২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ১ জুলাই আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ৭ ও ৮ জুলাই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালনের পর ৯ জুলাই তারা অবরোধ স্থগিত রেখে দেশজুড়ে গণসংযোগে মনোযোগ দেন। এদিন সমন্বয়করা অনলাইনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তী কর্মসূচির প্রস্তুতি নেন।

এদিকে কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। তবে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সমন্বয়করা স্পষ্ট করে জানান, আবেদনকারীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

কোটা আন্দোলন নিয়ে এদিন সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতের বিবেচনায় রয়েছে, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে এর সমাধান হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও গণসংযোগ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলতে থাকে এদিন। দুপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে বিভিন্ন ছাত্রী হলে গণসংযোগ চালায় শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ষোলশহরে রেললাইন অবরোধ করে প্রায় আধা ঘণ্টা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রাখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। রাজশাহীতে কলেজ গেটসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে।

একদিনের গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দেন, আন্দোলন থামছে না, বরং আরও বিস্তৃত হচ্ছে। পরদিন সারাদেশে সর্বাত্মক বাংলা ব্লকেডের ডাক দিয়ে আন্দোলন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।



banner close
banner close