বুধবার

৮ জুলাই, ২০২৬ ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

সমালোচনার জবাব দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৭

শেয়ার

সমালোচনার জবাব দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
ছবি সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের ১৪০ দিন পূর্তিতে নানা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বর্তমান সরকারের প্রায় পাঁচ মাস ছুঁতে চলা এই পথচলায় যে কয়েকজন মন্ত্রী সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

সম্প্রতি প্রবাসে থাকা সাংবাদিক ড. কনক সরওয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে নিজের রাজনৈতিক উত্থান এবং সরকারপ্রধানের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু হওয়ার সুবাদেই তিনি মন্ত্রিসভায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন—কনক সরওয়ারের এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, বয়সের ব্যবধান ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ ভিন্ন হওয়ায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের কোনো সুযোগ নেই। বরং নব্বইয়ের দশক থেকে তৃণমূল পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই তিনি সরকারপ্রধানের স্নেহ পেয়েছেন বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উদার নীতির সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছে। একই সাথে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ছড়ানো হচ্ছে সম্পূর্ণ অসত্য ও অপপ্রচার, এমন অভিযোগ করেন শাহে আলম।

এসময় সাংবাদিক কনক সরওয়ার প্রশ্ন করেন, গণমাধ্যমে সংবাদ অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আপনার সম্পদ বেড়েছে আট গুণ।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এটি সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য প্রচার করা হয়েছে। সম্পদের সকল হিসাব নির্বাচনের সময় হলফনামা দাখিল করা হয়েছে।

এসময় দলীয় ব্যক্তিরা নিজের সুবিধা না পেয়ে এমন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম আরও বলেন, মিডিয়াকে অবাধ স্বাধীনতার যে ঘোষণাটা দেওয়া হয়েছে, তারই অপব্যবহার করছে অনেকেই।

দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার এই সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হলেও, শেষাংশে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ড. কনক সরওয়ার। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ১৮০ দিনের যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা পার হলে প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সরকারপ্রধান যা ভাবছেন, দলের ভেতরের অনেকেই সেই বার্তা ঠিকমতো বুঝতে পারছে কিনা, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই প্রবাসী সাংবাদিক।

এদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, হলফনামার আংশিক তথ্য তুলে ধরে একটি বিশেষ মহল এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। অথচ দায়িত্ব গ্রহণের পরই স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসা থেকে নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নিয়েছিলেন শাহে আলম।

বগুড়ার শিবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মীর পরিবার দীর্ঘকাল ধরেই এ অঞ্চলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী হিসেবে সুপরিচিত। এই মীর পরিবারের হাত ধরেই নানা সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে পালটে গেছে শিবগঞ্জের জনপদ, এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। এমনকি এলাকার মানুষের প্রতি এই পরিবারের সহায়তার হাতও অনেক প্রসারিত বলে জানায় তারা। এছাড়াও তাদের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয়রা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট তথ্য উল্লেখ রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতেও পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত বা 'কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট' এড়াতে মীর শাহে আলম পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে সরে দাঁড়ান। ব্যবসা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই জাতীয় নির্বাচনের আগে, ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, পরিবারের মালিকানাধীন 'রোমা অটোরাইস মিল' ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়।

অথচ সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, তার পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। তাদের দাবি, হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তির কথা থাকলেও প্রতিবেদনে মাত্র ৩১ শতাংশের তথ্য উল্লেখ করে সম্পদের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি ক্রয়ের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও প্রতিমন্ত্রীর নামে নয়, বরং 'রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড'-এর নামে কেনা হয়েছে।

সত্যতা নিশ্চিত না করেই গণমাধ্যমের এমন ধারাবাহিক অপপ্রচার চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে স্রেফ আংশিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এই চেষ্টা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে দাবি সচেতন মহলের। এছাড়াও তাদের মতে, শাহে আলমকে বিতর্কিত করতে দলের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং মন্ত্রীর যোগসাজশে গণমাধ্যমের নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এই অবস্থাতেই কনক সরওয়ারের সাথে আলোচনায় যোগ দিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন শাহে আলম।



banner close
banner close