বুধবার

৮ জুলাই, ২০২৬ ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

শীর্ষ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করতে যাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪৮

আপডেট: ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫৫

শেয়ার

শীর্ষ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করতে যাচ্ছে সরকার
ছবি সংগৃহীত

দেশের ১০টি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে সরকারের যৌথ তদন্ত দল। এসব অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে দেওয়ানি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনও মামলার সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, যৌথ তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। এখন আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে দেওয়ানি মামলা করা হবে।

সরকারের তদন্তের আওতায় থাকা ১০টি শিল্পগোষ্ঠী হলো-এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, এসব গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, তদন্তে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে বিএফআইইউ। মূল অনুসন্ধান পরিচালনা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আইনি সহায়তা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

তদন্তে প্রতিটি শিল্পগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ-সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসরণ করে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা অর্জন, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গঠন, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গত ২ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএফআইইউকে চিঠির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানায়। পরে ৬ জানুয়ারি যৌথ তদন্তের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক ঋণ, ঋণের ব্যবহার, অর্থের প্রবাহ, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশাবাদী, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।



banner close
banner close