বুধবার

৮ জুলাই, ২০২৬ ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

পঞ্চদশ সংশোধনী আপিলের রায় বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৮

শেয়ার

পঞ্চদশ সংশোধনী আপিলের রায় বৃহস্পতিবার
ছবি সংগৃহীত

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (৮ জুলাই) তৃতীয় ও শেষ দিনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়াসহ অন্য আইনজীবীরা।

এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ মামলার শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে মুলতবি করেছিলেন।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। আদালত সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এর বিকাশ ঘটে। আদালতের মতে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেন। একই সঙ্গে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তনের সুযোগও রেখে দেন।

হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া 'লিভ টু আপিল' আবেদন করেন। ওই আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়। পরে আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দিয়ে মামলাটির শুনানি গ্রহণ করেন।

তিন দিনব্যাপী শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এখন এ বহুল আলোচিত মামলার রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেছেন।



banner close
banner close