প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের টার্গেট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, হলফনামার আংশিক তথ্য তুলে ধরে একটি বিশেষ মহল এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। অথচ দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসা থেকে নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
বগুড়ার শিবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মীর পরিবার দীর্ঘকাল ধরে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী হিসেবে সুপরিচিত। এই মীর পরিবারের হাত ধরে নানা সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে পাল্টে গেছে শিবগঞ্জের জনপদ, এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। এলাকার মানুষের প্রতি এই পরিবারের সহায়তার হাতও অনেক প্রসারিত। তাদের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয়রা জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট তথ্য উল্লেখ রয়েছে। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতেও পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এড়াতে মীর শাহে আলম পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিতভাবে সরে দাঁড়ান। ব্যবসা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, পরিবারের মালিকানাধীন ‘রোমা অটোরাইস মিল’ ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়।
অথচ সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, তার পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তির কথা থাকলেও প্রতিবেদনে মাত্র ৩১ শতাংশের তথ্য উল্লেখ করে সম্পদের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি ক্রয়ের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও প্রতিমন্ত্রীর নামে নয়, বরং ‘রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড’-এর নামে কেনা হয়েছে।
সত্যতা নিশ্চিত না করেই গণমাধ্যমের এমন ধারাবাহিক অপপ্রচার চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। গণমাধ্যমের একচেটিয়া অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন বিতর্ক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের চাচা মীর আবু জাকের মাখু।
হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে স্রেফ আংশিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এই চেষ্টা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে দাবি সচেতন মহলের। এছাড়া তাদের মতে, শাহে আলমকে বিতর্কিত করতে দলের একজন প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীর যোগসাজশে গণমাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। ভিত্তিহীন এসব সংবাদে শুধু ব্যক্তি শাহে আলম নয়, দলেরও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








