পাঁচ বছরের অধিক পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ ও সংরক্ষণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট সংগ্রহসহ তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত তদারকি করছেন।
তিনি জানান, জেলা আইনশৃঙ্খলা সভা এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
একই অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কোনো রাজনৈতিক হয়রানি নয়, বরং শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করছে সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০’ অনুযায়ী ১৭টি মামলায় ৪৪ জন আইনজীবীকে ‘স্টেট ডিফেন্স লইয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল দুটিতে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। পাশাপাশি ভার্চ্যুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আসামিদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পলাতক হয়ে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, মামলাজট কমাতে দেশের উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির জন্য সংবিধানের আলোকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
আইনমন্ত্রী জানান, অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক। শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এ অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে।
আরও পড়ুন:








