মঙ্গলবার

৭ জুলাই, ২০২৬ ২৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

৭ জুলাই বৃহত্তর রূপ নেয় কোটাবিরোধী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৩৯

আপডেট: ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪২

শেয়ার

৭ জুলাই বৃহত্তর রূপ নেয় কোটাবিরোধী আন্দোলন
ছবি সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ২০২৪ সালের ৭ জুলাই নতুন মাত্রা লাভ করে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেদিন সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও যোগাযোগকেন্দ্র অবরোধের ফলে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলন আরও বিস্তৃত, সংগঠিত ও শক্তিশালী রূপ লাভ করে।

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে শাহবাগে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর শাহবাগে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

একই দিনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক ও মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বিকেলে সতর্ক করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ না এলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি, এমনকি হরতালের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জেলায় জেলায় অবরোধ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।

এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেয় কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সীমিত পরিসরে কোটা রাখার পক্ষে মত দেন।

সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলও বিষয়টি নিয়ে মতামত দেন। তিনি বলেন, সরকার চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে আপিল বিভাগে যেতে পারে। তাঁর মতে, যথাযথ গবেষণা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আপিল পরিচালিত হলে রায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, হাইকোর্ট সরকারকে ২০১৮ সালের পরিপত্র সংশোধন বা নতুন করে জারি করতে বাধা দেয়নি। ফলে সরকার চাইলে ২০১৮ সালের পরিপত্র সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করতে পারে। তাঁর প্রস্তাব ছিল, শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রেখে বাকি শূন্যপদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হলে আন্দোলনের অবসান ঘটতে পারে।

তবে এসব পরামর্শের বাস্তবায়নের অপেক্ষায় না থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। সারা দেশে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে থাকেন এবং কোটাবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নিতে শুরু করে।



banner close
banner close