সোমবার

৬ জুলাই, ২০২৬ ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩

তারেক রহমানের সহনশীলতা বনাম হাসিনার আক্রমণাত্মক রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬ ২১:১১

শেয়ার

তারেক রহমানের সহনশীলতা বনাম হাসিনার আক্রমণাত্মক রাজনীতি
ছবি সংগৃহীত

শেখ হাসিনার থেকে যেখানে ভিন্ন তারেক রহমান। মাফিয়া হাসিনার রুদ্রমূর্তিও লাইনচ্যুত করেনি তারেক রহমানকে। তারেক রহমানের আচরণের প্রশংসা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিতর্কিত অধ্যায়। গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে দেশের মানুষ প্রতিহিংসাপরায়ণ ও প্রতিশোধপ্রবণ এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে আবদ্ধ ছিল। ফ্যাসিস্ট জগতের ডনখ্যাত শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে যে প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ ও আক্রমণাত্মক রাজনীতির শিকার দেশবাসী হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের আমলে মানুষ তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক আচরণগত চমক দেখাচ্ছেন। নিজ দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি তিনি যেমন ভ্রাতৃত্ব ও সম্মানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, ঠিক তেমনি বিরোধী দলের নেতাদের প্রতিও সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিরোধী দলের নেতাদের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতাবোধ দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তারেক রহমানের এই উন্নত আচরণের চর্চা কেবল নিজ দল বা বিরোধী দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গত ১৭ বছর বাংলাদেশের জনগণের মাথার উপর হাঁড়ি ভেঙে খাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও তাঁর আচরণে উদারতা ও সহমর্মিতা দেশবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ আমলের ১৭ বছর ছিল শোষণ ও আক্রমণাত্মক রাজনীতির এক অন্ধকার অধ্যায়। শোষণ জগতের রাজমহিষী শেখ হাসিনার এক ভয়ংকর রূপ দেখেছে বাংলাদেশ। বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দের প্রতি তাঁর ভাষা যেন ছিল গাজার উপর ইসরায়েলের অভিশপ্ত মিসাইল—হঠাৎ, তীব্র এবং বিধ্বংসী। তিনি কথায় কথায় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতেন এবং জেল-জুলুম ও কারা নির্যাতনের ভয় দেখাতেন।

বিগত সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ‘ইসরায়েলের জারজ সন্তান’ বলে মন্তব্য করে দেশজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। তাঁর এই ভাষা রাজনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে।

এছাড়া, অপশব্দের তহশীলদার হয়ে ওঠা শেখ হাসিনার শব্দবোমা থেকে রেহাই পাননি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও। জিয়াউর রহমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাকিস্তানে-এই যুক্তি তুলে ধরে তাঁকে আগাগোড়া পাকিস্তানের দালাল বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে তাঁর বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা ও কটাক্ষের শব্দভাণ্ডার আরও বিধ্বংসী। কখনো তাঁকে আত্মসাৎকারী হিসেবে তকমা দেওয়া, আবার কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ-সব মিলিয়ে রাজনৈতিক শালীনতা বারবার ভঙ্গ হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে নেমে খালেদা জিয়াকে ‘মেট্রিক ফেল’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।

এরই মধ্যে সদ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আচার-আচরণ, রীতি-নীতি ও শিষ্টাচার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মুগ্ধ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ তো করেনইনি, বরং তাঁর নামটিও উল্লেখ করেননি। যা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তবে এই ইতিবাচক চিত্রের মাঝেও এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা সামনে আসছে। তারেক রহমানের ব্যক্তিগত গুণাবলি ও নেতৃত্বগুণ অনেক সময় ম্লান হয়ে যাচ্ছে দলের তৃণমূলের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কলকারখানার অসচল অর্থনীতির কারণে।

অনেকেই মনে করছেন, যদি তিনি দলের তৃণমূলের এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে পারেন এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে পারেন, তাহলে তিনি হতে পারবেন একজন সত্যিকারের রাষ্ট্ররূপকার।



banner close
banner close