আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাইদের হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তার বড় ভাই আবু হোসেন। একই সঙ্গে তিনি শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং উত্তরাঞ্চলের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
আবু হোসেন বলেন, তার ছোট ভাই আবু সাইদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার দৃশ্য শুধু দেশের মানুষই নয়, বিশ্ববাসীও দেখেছে। তার আত্মত্যাগই মানুষকে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু এই আন্দোলনে বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে এবং অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে আবু হোসেন বলেন, যেসব পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে এবং যারা হাত, পা বা চোখ হারিয়ে সারাজীবনের জন্য অক্ষম হয়ে পড়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের মামলার রায় হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আগামী ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হবে। আমরা চাই, সব শহীদ হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও কার্যকর করা হোক।
জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলায় নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা উদ্বেগজনক। এসব স্মৃতিচিহ্ন রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জুলাইয়ের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারে।
আরও পড়ুন:








