বৃহস্পতিবার

২ জুলাই, ২০২৬ ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩

পদ্মা সেতুর নিচে মাটি অপসারণে ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৮

আপডেট: ২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২

শেয়ার

পদ্মা সেতুর নিচে মাটি অপসারণে ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

পদ্মা রেলওয়ে সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের নির্ধারিত কাজের অংশ এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মাটি অপসারণের ঘটনা সত্য হলেও এটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়। প্রকল্পের চুক্তি ও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই ভরাট অপসারণ করে এলাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা চুক্তিতেই উল্লেখ রয়েছে।

রবিউল আলম বলেন, ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থেই এ কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর প্রাকৃতিক ভূমিস্তরে পৌঁছানো যাবে। ওই স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে ছয় ফুট পুরু পাইল ক্যাপ। এরও নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্টের কাঠামো স্থাপিত। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্ট জমি দেশের স্বার্থে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, রেলওয়ের জমি রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহার হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে যতটুকু মাটি অপসারণ প্রয়োজন, তা করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি অপসারণের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।



banner close
banner close