সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার খুব কাছাকাছি।
গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে নরসিংদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যা গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হওয়া অন্যতম শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত। ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নরসিংদী এলাকায় আরও তিনটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।
২২ জুন রাত আটটা ২৮ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জে। এসব ঘটনায় ঢাকার কাছাকাছি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই। বেশিরভাগ অংশ, বিশেষ করে উত্তর দিকের মাটি মধুপুরের লাল মাটি, যা বেশ শক্ত। মোঘল আমল থেকে ব্রিটিশ পিরিয়ড, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে উত্তর দিকে এবং বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে শহর দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। এতে লাল মাটি দখল হয়ে যায়। পরে শহর পূর্ব-পশ্চিমে বাড়তে শুরু করে, যেখানে নরম পলিমাটি এবং জলাশয় ছিল যা ভরাট করা হয়েছে।
শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনা করলে মধুপুরের লাল মাটির একই গড়নের এলাকা যেমন রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁও ইত্যাদি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ, কোনটি নয়- এটা বলা মুশকিল। যতক্ষণ না ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ বলা যাবে না কোনটা ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকিমুক্ত।
তাঁর মতে, পুরান ঢাকাকে আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও নতুন ঢাকা ও পুরান ঢাকার মধ্যে পার্থক্য মূলত সরু রাস্তা। সরু রাস্তার কারণে দুর্যোগের সময় মানুষকে দ্রুত সরানো কঠিন হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পুরান ঢাকায় পুরনো কিছু ভবন শত বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে এবং কোনো ভূমিকম্পেও ভেঙে পড়েনি। তাই কাঠামোর মানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার ভেতরে কোনো ফল্ট লাইন নেই। বাংলাদেশের ফল্ট লাইন বা চ্যুতি রেখার জন্য পাঁচটি জায়গা পরিচিত। এর মধ্যে বার্মা বা মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী, নরসিংদীর ওপর দিয়ে চলে যাওয়া প্লেট বাউন্ডারি, সিলেট থেকে ভারতের দিকে যাওয়া প্লেট বাউন্ডারি, ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় অতীতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এগুলোর কিছু জায়গায় ৩৫০ বছর, আবার কিছু জায়গায় ৯০০ বছরের মতো সময় পরে বড় ভূমিকম্প হতে পারে। এছাড়া ব্লাইন্ড ফল্ট রয়েছে, যা ভূ-পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না এবং সাধারণ মানচিত্রে শনাক্ত করা কঠিন। বাংলাদেশে দুটি চিহ্নিত ব্লাইন্ড ফল্ট আছে- একটি ময়মনসিংহে, অন্যটি রংপুরে। এগুলো ঢাকার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
আরও পড়ুন:








