সোমবার

২৯ জুন, ২০২৬ ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

সংসদে সময় বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬ ১২:৪২

শেয়ার

সংসদে সময় বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময়সীমা নিয়ে বৈষম্য এবং সংসদের কার্যপ্রণালী লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত বক্তব্যের সময় কমিয়ে দেওয়া হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান ও দলটির জোটের প্রবীণ নেতারা এসব অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, রোববার রাতে জাতীয় সংসদে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সংসদীয় রীতিনীতি ও পূর্বসমঝোতার পরিপন্থি।

সংবাদ সম্মেলনে নাজিবুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের জন্য নির্ধারিত সময় থেকে পাঁচ মিনিট করে কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে তাদের মাত্র তিনজন সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। অন্যদিকে সরকারদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার পরও সরকারদলীয় সদস্যদের বক্তব্য চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া পূর্ববর্তী আলোচনার পরিপন্থি বলে তিনি দাবি করেন।

বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি অনুসরণ না করেই সংসদে বিল উপস্থাপন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিল পর্যালোচনা ও আপত্তি উত্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করে প্রতিদিন নতুন বিল উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার ঘটনাও সংসদ থেকে ওয়াকআউটের অন্যতম কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের এক প্রবীণ সংসদ সদস্য রোববারের ঘটনাকে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে "ন্যাক্কারজনক ও উদ্ধতপূর্ণ" বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বক্তব্য রেখেছেন।

জোটের নেতারা বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে জনগণের কথা বলার ন্যায্য সুযোগ না পেলে সেখানে থাকার যৌক্তিকতা থাকে না। জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তারা।



banner close
banner close