রবিবার

২৮ জুন, ২০২৬ ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

দরিদ্রদের জন্য এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট বানাবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৫

শেয়ার

দরিদ্রদের জন্য এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট বানাবে সরকার
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী ইতিমধ্যে প্রকল্পের স্থান নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জানান, স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং দেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তিতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জমিতে ভাড়াভিত্তিক এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সংসদের একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম দূর করতে সারাদেশে প্রকৃত দুস্থদের তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে একটি শুদ্ধি অভিযান ও ডাটাবেজ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল (রবিবার) একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, দেশে প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাতার আওতা ও পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ উপকারভোগী ৬৫০ টাকা হারে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ভাতা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ৬২ লাখ। এই খাতে মোট বরাদ্দ থাকবে পাঁচ হাজার দুইশ ৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এছাড়া আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে ৭০০ টাকা হারে মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য মোট ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পাইলটিং হিসেবে ইতিমধ্যে তিনটি পর্যায়ে ৬৯ হাজার তিনশ ৮৭ জন নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।



banner close
banner close