রবিবার

২৮ জুন, ২০২৬ ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

৮২ লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয়ের ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ১৫:৫৯

শেয়ার

৮২ লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয়ের ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন তাঁর চিকিৎসা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর এই চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর রবিবার (২৮ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশে বা বিদেশে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি তহবিল থেকে পাওয়ার অধিকারী। তিনি বিধি মোতাবেক দেশের উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ এবং সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েই বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত বোর্ড পরীক্ষা শেষে জানায় যে, তাঁর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত এবং এর জন্য ক্যাথেটার এবলেশন নামক একটি জটিল অপারেশন আবশ্যক। দেশে এই অপারেশনের প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসা ব্যয়ের বিবরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি প্রথমবার থাইল্যান্ডে যান এবং তখন পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এরপর গত জানুয়ারি মাসে তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং তখন বিল আসে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। তিনি জানান, থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিলে কিছুটা ছাড়ও দিয়েছিল। চিকিৎসার সমস্ত বিল ও ভাউচার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সরকার কেবল তাঁর হাসপাতালের বিল, অপারেশন ও ওষুধের ব্যয় বহন করেছে। তাঁর পরিচর্যার জন্য সঙ্গে যাওয়া সহযাত্রীর সমস্ত খরচ এবং নিজের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত বাবদ যাবতীয় ব্যয় তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পরিশোধ করেছেন। সরকারি প্রতিটি ব্যয়ের প্রকৃত রসিদ ও ভাউচার সংরক্ষিত আছে এবং যে কেউ চাইলে তা যাচাই করতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে আইনগত ও নিয়মতান্ত্রিক বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে জনমনে বিভ্রান্তি ও শঙ্কা তৈরি হয়। তিনি এই ধরনের সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা জানান। পাঠকদের জন্য ফেসবুক পোস্টের মূল বক্তব্যটি এখানে তুলে ধরা হলো। প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তাঁর ফেসবুক পোস্টের যাবতীয় তথ্য যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।



banner close
banner close