রবিবার

২৮ জুন, ২০২৬ ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ১৩:৫১

শেয়ার

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে
ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বাজারে প্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব দেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, দেশে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট চলছে এবং অনেক মানুষ ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে নগদ টাকা ঘরে রাখছেন। এই পরিস্থিতি উত্তরণে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা প্রয়োজন। সরকার এই নোটগুলো বাতিলের ঘোষণা দিলে মানুষ দুই মাসের মধ্যে তা ব্যাংকে জমা দিয়ে বৈধ করার সুযোগ পাবে। যাদের আয়কর নথিতে এই অর্থের উল্লেখ নেই, তারা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এর ফলে একদিকে যেমন বাজেট ঘাটতি পূরণ হবে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি পাবে যা দেশের বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি জানান, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। সংসদ সদস্য বা রাজনৈতিক নেতা হলেই ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির মালিক হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে এনে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

টাকা পাচার রোধ প্রসঙ্গে এই সংসদ সদস্য বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন এবং এখন পর্যন্ত পাচার হওয়া কোনো অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় টাকা একবার ঢুকে গেলে তা উদ্ধার করা যায় না। তাই অর্থ পাচার বন্ধ করতে সিঙ্গাপুর, দুবাই বা কানাডার মতো একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ আর্থিক পরিবেশ দেশে গড়ে তুলতে হবে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা পায় সেখানেই অর্থ বিনিয়োগ করে। দেশের ভেতরে বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে টাকা পাচারের প্রবণতা কমে আসবে।

বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে চিহ্নিত করেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হওয়া উচিত বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত বাজেটের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও ঘাটতি বাজেট দেওয়া হয়েছে যা উন্নয়নের একটি পরিকল্পনা। একটি বিধ্বস্ত ও লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে মাত্র তিন মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কারণে বাজেট নিয়ে বড় ধরনের কোনো সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।



banner close
banner close