জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান। এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে রায় পড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিচারিক কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। রায়ের শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা আসামিদের অপরাধের দায় পড়ে শোনান। এরপর বিচারক মোহিতুল হক এনাম চার্জ পাঠ করেন এবং বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে এজলাসে হাজির করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর চার আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। পুলিশ তাকে ধাওয়া করলে তিনি ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। ওই অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রদান করেন।
আরও পড়ুন:








