বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয় রোধে ১৯৮৪ সালের ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’ পুনরায় কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অপচয় রোধ এবং অতিথির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৯৮৪ সালে ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ১৯৮৪’ (দ্য গেস্ট কন্ট্রোল অর্ডার, ১৯৮৪) জারি করা হয়েছিল। দেশের সামগ্রিক খাদ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অপচয় রুখতে এই আদেশ জারি করা হয়। ব্রিটিশ আমলের ধারাবাহিকতায় এবং ১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’-এর ৩(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৮৪ সালের ৩ জুলাই বিশেষ এই আদেশটি জারি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
আদেশের মূল শর্ত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা আয়োজক বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা বা যেকোনো সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আয়োজক পরিবার বাদে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে চাল বা গমের তৈরি কোনো খাবার পরিবেশন করতে পারবেন না। বিশেষ কারণে কোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে আপ্যায়ন করার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে ফরম-এ-র মাধ্যমে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ১০০ জনের অতিরিক্ত প্রতিটি অতিথির জন্য সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ২৫ টাকা ফি জমা দিতে হবে। আদেশ জারির সময় এই ফির পরিমাণ ছিল জনপ্রতি ১০ টাকা।
নিয়ম যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক, পুলিশের গেজেটেড কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত কর্মকর্তাকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ ও তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১৯৫৬ সালের মূল আইনের আওতায় এই আদেশ অমান্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার আওতায় অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং অনুষ্ঠানস্থলের (যেমন কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন হল) মালিকের জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। ২০০৩ সালে আদেশটিতে একটি সংশোধনী আনা হয়, যার মাধ্যমে মিলাদ মাহফিল, ইফতার পার্টি, কুলখানি, চেহলাম, ওরস বা শ্রাদ্ধের মতো বিশুদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে অতিথি সংখ্যার বাধ্যবাধকতা বা অতিরিক্ত ফির আওতার বাইরে রাখা হয়।
আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি, তবে যথাযথ প্রয়োগ ও নজরদারির অভাবে এটি বর্তমানে প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার ও কনভেনশন সেন্টারে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান আয়োজিত হলেও অনুমতি গ্রহণ বা ফি প্রদানের নিয়ম এখন আর অনুসরণ করা হয় না।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম বিয়ের অনুষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত ব্যয় ও জাঁকজমক বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করা গেলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অপচয় কমানো গেলে এক দিনের মধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপচয় পছন্দ করেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন:








