শুক্রবার

২৬ জুন, ২০২৬ ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩

বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় নাগরিক সাড়ে আট হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬ ২১:৫৫

আপডেট: ২৬ জুন, ২০২৬ ২২:৪৯

শেয়ার

বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় নাগরিক সাড়ে আট হাজার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন, যাদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার, যা মোট অবৈধ বিদেশির মধ্যে সর্বোচ্চ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে এবং অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত অবৈধ ভারতীয় নাগরিকের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক কর্মরত রয়েছেন, যাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের বৈধ কাজের অনুমতি রয়েছে।

দেশের পোশাক শিল্প, টেক্সটাইল, বায়িং হাউস, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় ভারতীয় নাগরিকদের কর্মরত থাকার তথ্য দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র। সূত্র অনুযায়ী, অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের অর্ধেকের বেশি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে নিয়োজিত, যাদের অনেকে মার্চেন্ডাইজার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্লোর ম্যানেজার পদে কর্মরত। এছাড়া বায়িং হাউসে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, বেসরকারি বড় গ্রুপ অব কোম্পানিজে ১০ থেকে ১২ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পাঁচ থেকে আট শতাংশ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় তিন থেকে পাঁচ শতাংশ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে কর্মরত রয়েছেন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক বক্তব্যে বাংলাদেশে ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক কর্মরত থাকার দাবি করেছিলেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কাজের অনুমতি বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান এবং অবৈধ কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র মতে, অবৈধভাবে কর্মরত একটি অংশ হুন্ডি ও অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিবছর অর্থ ভারতে পাঠাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করা হয়। বৈধ কাজের অনুমতি না থাকায় তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সমন্বয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদি ভিসায় আসা ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া রোধে ভিসা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়াও চলছে।

এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন খুলনা-দর্শনা ডাবল লাইন রেলপথ এবং পার্বতীপুর-কাউনিয়া রেলপথ রূপান্তর প্রকল্প দুটি স্থগিত করা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় পক্ষ এ দুটি প্রকল্পে অর্থায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করার পর সরকার প্রকল্প দুটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিকল্প অর্থায়নে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে।



banner close
banner close