প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের শেষ দিনে দেশটির শীর্ষ তিন নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেইজিংয়ের দিওয়াউতাই স্টেট গেস্টহাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে ১৩টি দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়া তিনটি সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং একটি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সই হয়। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অবস্থান তুলে ধরেন।
সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী হয়। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পাশাপাশি দুই নেতার মধ্যে একটি পৃথক একান্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং বাংলাদেশ তার বিদ্যমান এক চীন নীতির অবস্থানেই অটল রয়েছে। এই সফর ও একান্ত বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি চীনের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই সফরকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে গণ্য করছে।
আরও পড়ুন:








