শুক্রবার

২৬ জুন, ২০২৬ ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিচারব্যবস্থায় জট: পুলিশের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ২২:১৮

শেয়ার

বিচারব্যবস্থায় জট: পুলিশের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে মানুষ
ছবি সংগৃহীত

বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, একটি মামলা নিষ্পত্তিতে যে পরিমাণ সময় লাগে, একজন মানুষের পক্ষে ততটা ধৈর্য ধারণ করা কঠিন। এ কারণে মানুষ পুলিশের কাছে মামলা করতে ভয় পায় এবং আস্থা রাখতে পারে না।

তিনি আরও জানান, দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে হাইকোর্টে ১ হাজার ২৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং আদালত প্রতিদিন পরিচালিত হলেও আগামী ১০ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থায় এই অচলাবস্থার কারণে মানুষ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিচার চাইতে বাধ্য হচ্ছেন, যা মূলত বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজ।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া বক্তারা নির্যাতন, বিচারহীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বন্ধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকারের প্রোগ্রামস পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা।

সভায় অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ড. ফয়েজুল হাকিম, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক শফিকুল আলম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল।

সভায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



banner close
banner close