শুক্রবার

২৬ জুন, ২০২৬ ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

ত্যাগ ও শোকের আবহে আগামীকাল পবিত্র আশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ২২:০১

শেয়ার

ত্যাগ ও শোকের আবহে আগামীকাল পবিত্র আশুরা
ছবি সংগৃহীত

হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররম আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর শোকের দিন হিসেবে বিবেচিত। ৬১ হিজরি সনের এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

ইসলামের প্রকৃত আদর্শ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের এই আত্মত্যাগকে ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। তাঁরা বাণীতে পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। রাজধানীসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে দিনটি পালন করবে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ বারান্দায় আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ। আলোচকরা কারবালার ঘটনাকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধর্মীয় কর্মসূচিগুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মিছিলে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার নিশান বহন না করা এবং কোনো প্রকার ধারালো ধাতব বস্তু, দাহ্য পদার্থ, লাঠি, ব্যাগ বা সন্দেহজনক বাক্স নিয়ে প্রবেশ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটগুলোতে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। যানজট এড়াতে এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ জনগণকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।



banner close
banner close