বৃহস্পতিবার

২৫ জুন, ২০২৬ ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

ঊর্ধ্বতন সম্মতি জটিলতায় টিউলিপের রেড নোটিশ আবেদন আটকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ২১:০০

শেয়ার

ঊর্ধ্বতন সম্মতি জটিলতায় টিউলিপের রেড নোটিশ আবেদন আটকে
ছবি সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি দুদক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ এবং নোটারি সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনটি ইন্টারপোলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি দুদক। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত টিউলিপের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন। এর আগে ফ্ল্যাট জালিয়াতির মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর আদালতে এই আবেদন করেছিলেন।

আদালতে করা দুদকের আবেদনে বলা হয়, টিউলিপ তাঁর খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের আইন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে রাজধানীর গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের আগেই তিনি দেশত্যাগ করেন। আবেদনে আরও বলা হয়, টিউলিপ মামলার সহায়ক প্রমাণসহ আলামত বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন, যে কারণে বিদেশে অবস্থানরত তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ কমিশন না থাকায় সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম আটকে রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে শেখ হাসিনা পরিবারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছিল, যা সম্পন্ন হয়েছিল দুদকের কমিশন কার্যকর থাকা অবস্থায়। গত ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করার পর থেকে মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন অনুমোদন, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, সম্পত্তি জব্দ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আবেদনসহ দুদকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থমকে আছে।

দুদকের আরেকটি সূত্র জানায়, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। তবে টিউলিপ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় যেকোনো ভুল এড়াতে রেড নোটিশ জারির আবেদনের ফাইলটি বর্তমানে দুদকের আইন শাখার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় (ভেটিং) রয়েছে। কমিশন না থাকায় আবেদনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে ওই সূত্র জানায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতি পেলে ফাইলটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদকের কাছে রেড নোটিশ পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য না থাকতে পারে। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলার সম্ভাবনাও তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতির মামলায় দেশে ফেরাতে যে ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের আবেদন করেছে দুদক, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ ও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামান, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই ভাই। এই তালিকায় থাকা বেনজীর আহমেদকে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়, যা গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই গ্রেপ্তারের পর বিদেশে পলাতক হেভিওয়েট আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ আবেদনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।



banner close
banner close