বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের দেওয়া জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকারগুলোকে কাজ ও ফলাফলে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যৎকে গ্রহণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশ সেখানে তার দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।
মঙ্গলবার চীনের দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স-এর একটি অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ শীর্ষক এই অধিবেশনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জলবায়ু কার্যক্রমকে কোনো ব্যয় হিসেবে দেখে না। বরং একে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। একটি সবুজ, নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের ওপর জোর দেন। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে রূপান্তর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজসাধ্য ও চাহিদাসম্পন্ন হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি সবুজ জলবায়ু তহবিলের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজন প্রক্রিয়াকে অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান যে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন নির্ধারিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা তাদের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন জাতীয় কৌশলের মূল কেন্দ্রে রয়েছে। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বন্যার ঝুঁকি কমাতে আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকীকরণের উদ্যোগ এগিয়ে চলছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় বনায়ন কর্মসূচির গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার ও তাপমাত্রা হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
শিল্প ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত সবুজ কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত। এছাড়া বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে চক্রাকার অর্থনীতি ও জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিশেষে তিনি বিশ্বনেতাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে মানবিক সংকটের সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:








