আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে আদালতের বিচারের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সকল ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় দলটি যদি কোনো ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে, তবে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা রক্ষায় সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে সক্রিয় থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঘোষণা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশের জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উপদেষ্টা মনে করেন, দলটির বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি পালন বা আন্দোলন করার মতো নৈতিক সাহস বর্তমানে নেই। তিনি বলেন, অতীতে লুটপাট এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে দলটির নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের অতীত কর্মকাণ্ড ভুলে না যাওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষে বড় গলায় কথা বলা সম্ভব হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আরও জানান, আওয়ামী লীগের বড় ধরনের কোনো সাংগঠনিক সক্ষমতা না থাকলেও তাদের ছোটখাটো নাশকতা করার মতো ক্ষমতা থাকতে পারে। তবে সরকার যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় সজাগ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ভূমিকা বা অবস্থান কী হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয় বলে তিনি পরিষ্কার করেন।
আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ আইনগত অবস্থান সম্পর্কে সরকারের এই স্পষ্ট বার্তা দলটির রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। মূলত আদালতের রায়ের ওপরই এখন দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
আরও পড়ুন:








