মঙ্গলবার

২৩ জুন, ২০২৬ ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬ ১২:২৯

শেয়ার

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত

পররাষ্ট্র নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার। এই ক্রয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করে এই বিষয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করবেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে শেয়ার্ড ফিউচার বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকীকরণ প্রকল্পে চীন ও বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার মোংলায় চীনকে ১১০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ইতিপূর্বে ভারতের মুম্বাই-ভিত্তিক একটি কোম্পানির সাথে হওয়া চুক্তিটি বাতিল করে এই জমি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কে বেইজিং ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য। চীন থেকে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হলে দেশের বেকার যুবকদের জন্য ব্যাপক কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই ঘনিষ্ঠতা ভারত নিবিড় নজরদারিতে রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার মতো ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে ঢাকা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি মস্কো সফর করে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতের সাথে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে দেশটিতে সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



banner close
banner close