বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্য এবং এর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। রোববার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য প্রদান করেন।
জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ব্যারেজ নির্মাণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন বা ওয়ারপো পরিচালিত প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি এবং রাজবাড়ীর পাংশা এলাকাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুপারিশ করা হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয়। চারটি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি দেশীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই সমীক্ষা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়। সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যাচাই-বাছাই করেছে এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির পর্যালোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, প্রস্তাবিত এলাকায় নদীতীর স্থিতিশীল রয়েছে। একইসঙ্গে চরাঞ্চল গঠিত হওয়ায় ব্যারেজ নির্মাণের জন্য পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত অবস্থান বর্তমানে অনুকূল অবস্থায় রয়েছে। তবে পদ্মার মতো বৃহৎ নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নকশা হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের জটিলতা বিবেচনায় বুয়েটের একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও পানিসম্পদ মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন:








