মঙ্গলবার

২৩ জুন, ২০২৬ ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩

ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে: গতি ফিরবে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ১৪:৫০

শেয়ার

ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে: গতি ফিরবে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগে
ছবি সংগৃহীত

গাজীপুরের ভোগড়া থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জুন নাগাদ নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ না করেই দেশের পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে রাজধানীর যানজট হ্রাসের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ভোগড়া থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার মূল এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার উদ্বোধনের পর এই অংশে টোলের বিনিময়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এছাড়া ভোগড়া থেকে বস্তুল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সার্ভিস সড়ক, ধীরাশ্রম ও মীরেরবাজার এলাকায় দুটি রেলওয়ে ওভারপাস এবং কাঞ্চন, নাগদা ও উলুখোলা এলাকায় আটটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কাঞ্চন থেকে ভুলতা পর্যন্ত মূল সড়কের কাজ এবং ভুলতা থেকে মদনপুর অংশে অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, চার লেনবিশিষ্ট এই নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন এক্সপ্রেসওয়ের মূল প্রস্থ ২০.২ মিটার। এর পাশাপাশি দুই পাশে ৪.৮ থেকে ৭.৩ মিটার প্রশস্ত সার্ভিস সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এই এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ককে সরাসরি সংযুক্ত করবে। পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে আধুনিক সেমি-রিজিড পেভমেন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করায় সড়কটি প্রচলিত ইটের সড়কের তুলনায় অধিক টেকসই হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস পাবে।

ঢাকা বাইপাস উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আসলাম আলী জানান, মোট ৪৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ের মধ্যে ১৮ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক বছর বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, এই এক্সপ্রেসওয়েটি চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত করিডোর হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্যানুসারে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ হাজার যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করবে, যার ৬০ শতাংশই হবে পণ্যবাহী যান। ভারী যানবাহনগুলো সরাসরি এই পথ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় রাজধানীর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে। এক্সপ্রেসওয়েটি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামের বাস্তব সহযোগিতা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ২০৪৭ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্রম পরিচালিত হবে।



banner close
banner close