বৃহস্পতিবার

১৮ জুন, ২০২৬ ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সহায়তায় ইইউর ১৪ মিলিয়ন ইউরো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬ ২০:১২

আপডেট: ১৮ জুন, ২০২৬ ২০:১৪

শেয়ার

রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সহায়তায় ইইউর ১৪ মিলিয়ন ইউরো
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১৪ মিলিয়ন ইউরো উন্নয়ন অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার ইইউ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর তাদের অংশীদারিত্ব নবায়নের মাধ্যমে এই নতুন অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই তহবিলটি ইইউর নিয়মিত মানবিক সহায়তা এবং পূর্ববর্তী বহুবর্ষীয় উন্নয়ন নীতিমালার অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি স্থানীয় বাসিন্দার দক্ষতা বৃদ্ধি ও রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস সরবরাহসহ স্বাবলম্বিতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার এ বিষয়ে জানান যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার সমাধানে সাড়াদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আয়বর্ধক সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই অর্থ কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তা করবে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের পথ প্রশস্ত করবে। এটি মূলত শরণার্থীদের মর্যাদা রক্ষা এবং মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে কাজ করবে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এই সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, দীর্ঘ সময় ধরে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর জন্য এই ধরনের অবিচল সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুদান শরণার্থীদের সুরক্ষা পরিষেবা নিশ্চিত করা, মৌলিক চাহিদা মেটানো এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা জাগিয়ে রাখতে সহায়ক হবে।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ জীবনযাত্রা এবং সীমিত সম্পদের কারণে শরণার্থীরা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, পাচার ও শোষণ থেকে রক্ষা করতে শরণার্থী শিবিরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং কার্যকর সুরক্ষা মেকানিজম গড়ে তোলা জরুরি। এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী ও শিশুদের লাকড়ি সংগ্রহের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে, যা একই সাথে পরিবেশ রক্ষা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, আগামী ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালন করা হবে। তার প্রাক্কালেই এই বড় অঙ্কের সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হলো। বর্তমানে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকার এবং দাতা সংস্থাগুলোর সাথে যৌথভাবে ২০২৫-২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এই পরিকল্পনায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অতি জরুরি চাহিদা মেটাতে ৭১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সহায়তা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত মর্যাদার সাথে বসবাস নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।



banner close
banner close