দেশের প্রধান প্রধান রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রেলপথকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সড়ক সুরক্ষিত রাখতে এবং ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকার চারপাশে যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও প্রসারে যমুনা নদীতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে ২৪টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের সব রেলপথকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যাতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হয়। এছাড়া রেলের সক্ষমতা ও সেবার মান বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে আন্তনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
আরও পড়ুন:








