দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো প্রকার অবহেলার প্রমাণ পেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল অধিবেশনে দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে এই সংকটের দায় এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কারও অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই সম্পাদিত হয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার হামের প্রাদুর্ভাব রোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সুদৃঢ় করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার লক্ষ্যে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন:








