বুধবার

১৭ জুন, ২০২৬ ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১৬ বার পেছালো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬ ১৭:০৮

আপডেট: ১৭ জুন, ২০২৬ ১৮:৪৩

শেয়ার

হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ১৬ বার পেছালো
ছবি সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৮ জুন ধার্য করেছে আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছাল ১৬ বার।

বুধবার ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই নতুন দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত দিনে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একই আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি রাহুল ও দাউদ নামেও পরিচিত, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির এবং মো. নুরুজ্জামান নোমানী, যিনি উজ্জ্বল নামে পরিচিত। এছাড়া ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম ও মো. আমিনুল ইসলাম, যিনি রাজু নামে পরিচিত। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. ফয়সাল এবং মো. আলমগীর হোসেন, যিনি আলমগীর শেখ নামে পরিচিত, তারাও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন। ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে আরও অভিযুক্ত হয়েছেন ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার। অভিযুক্তদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ আদায় করে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানা এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতকারীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।



banner close
banner close