মঙ্গলবার

১৬ জুন, ২০২৬ ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযানের নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬ ২০:২০

আপডেট: ১৬ জুন, ২০২৬ ২০:২১

শেয়ার

ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধে অভিযানের নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ইলিশ মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রতিবন্ধক অনেক ধরনের জাল ব্যবহার করে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করছেন জেলেরা। এ ধরনের ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার মৎস্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬ এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এবং এটি বাংলাদেশের গর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এর সঙ্গে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি জড়িত। জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ ইলিশ উৎপাদন, আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, যা এ খাতকে কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত করেছে। তাই এ খাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া অপরিহার্য। গত বছর প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে ভিজিএফ সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সহায়তার পরিমাণ ও পরিধি আরও বাড়ানো হবে, যাতে জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হোন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে ইলিশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনা হবে। মৎস্যজীবীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধাভোগী হবেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ইলিশ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।



banner close
banner close