শনিবার

১৩ জুন, ২০২৬ ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বড়পুকুরিয়ার ৩নং ইউনিট ফের বিকল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ২০:৪০

শেয়ার

বড়পুকুরিয়ার ৩নং ইউনিট ফের বিকল
ছবি সংগৃহীত

৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সাত মাসব্যাপী জেনারেল ওভারহলিং সম্পন্ন করে চালুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিট। গত ২৫ মে দুটি বড় যন্ত্রাংশ বিনষ্ট হওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। চীন থেকে প্রতিস্থাপন যন্ত্রাংশ আনতে অন্তত আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর ওভারহলিংয়ের উদ্দেশ্যে ৩নং ইউনিটটি বন্ধ করা হয়। প্রায় সাত মাস পর গত ২০ মে বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। এ ওভারহলিং কাজে মোট ব্যয় হয় ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের একাধিক প্রকৌশলী ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, ওভারহলিংয়ের নামে নতুন যন্ত্রাংশ স্থাপনের পরিবর্তে পুরনো যন্ত্রাংশ সংস্কার করে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, এ কারণেই চালুর এত অল্প সময়ের মধ্যে ইউনিটটি বিকল হয়েছে এবং এর দায় ওভারহলিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের।

তবে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগে থেকে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ওভারহলিং বাবদ ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে ১নং ইউনিট চালু রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা যথাযথভাবে পালন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে বারবার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ৫২৫ মেগাওয়াট মোট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২নং ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দিন একসঙ্গে তিনটি ইউনিট সচল রেখে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।



banner close
banner close