মঙ্গলবার

২৩ জুন, ২০২৬ ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

চলতি মাসেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬ ২২:০০

শেয়ার

চলতি মাসেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

জুনের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটি হবে তাঁর দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে চীন সফরের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বক্তব্যে কায়সার কামাল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের সফর সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জ একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় সংলাপের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সার্ককে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে চীনও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর তিনি জোর দেন।

ফোরামের পাশাপাশি ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশি সংসদীয় প্রতিনিধিদল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েই এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। চীনা নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এর আগে সংসদীয় দলটি ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। এবারের প্রদর্শনীতে থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ ৮৪টি প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের ৯০টি দেশের অংশগ্রহণে কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বাণিজ্য মেলা দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।



banner close
banner close