বুধবার

১০ জুন, ২০২৬ ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ব্যাংক থেকে ১,৮০৯ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ হাসিনার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ২২:০৭

শেয়ার

ব্যাংক থেকে ১,৮০৯ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ হাসিনার বিরুদ্ধে
ছবি সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের বিপুল অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে একটি ফরেনসিক অডিটে উঠে এসেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ২৯টি ব্যাংক মোট ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দিয়েছে, যা ওই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ২৪ শতাংশ।

অডিটে দেখা গেছে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সদস্য ব্যাংকগুলোকে সরাসরি প্রভাবিত করে এই অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বিএবি নিজে সদস্য ব্যাংক থেকে ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠায়। বাকি ১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা বিএবির পাঠানো অনুরোধপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো সরাসরি প্রদান করে। এর বাইরে অনুসন্ধানে আরও ৫৬৫ কোটি টাকার একই ধরনের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ত্রাণ, বন্যা মোকাবিলা ও শিক্ষা সহায়তার নামে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার চেয়ারপারসনশিপে পরিচালিত শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট পেয়েছে ৩৭৪ কোটি টাকা, যার প্রায় অর্ধেক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ব্যয় হয়েছে। হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশন পেয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা। তবে অডিটে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করে সূচনা ফাউন্ডেশনের হিসাবে আরও ৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা জমা করানো হয়েছিল।

এ ছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও অর্থ পাঠানো হয়েছে। ক্রীড়া আয়োজন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ওপর নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের স্পন্সরশিপে ব্যয় হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও এই তহবিল থেকে অর্থ পেয়েছেন।

অডিটে ৫৩৩ কোটি টাকার ব্যয়কে অযোগ্য বা সমর্থনহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকার অনুদানের তথ্য ব্যাংকগুলো দিলেও যথাযথ নথিপত্রে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার অনুদানের বিপরীতে প্রাপকের স্বীকৃতি বা ব্যাংকিং দলিল পাওয়া যায়নি। ৯৯ লাখ টাকা নগদে দেওয়া হয়েছে এবং অস্তিত্বহীন সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই ৭৬ লাখ টাকার কেনাকাটার প্রমাণ মিলেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দুটি ঘটনাও অডিটে তুলে ধরা হয়েছে। একটি ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের সহায়তার নামে সংগৃহীত অর্থ পরে অনুমোদন ছাড়াই অটিস্টিক শিশুদের একটি বিশেষায়িত স্কুলে পাঠানো হয়েছে মর্মে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। আরেকটি ঘটনায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সহায়তার উদ্দেশ্যে সংগৃহীত অর্থ থেকে ১ কোটি টাকা অ্যাকাউন্ট-পেয়ি চেকের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া এক খাত থেকে অন্য খাতে মোট ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা সরানো হয়েছে বলেও অডিটে উল্লেখ রয়েছে।



banner close
banner close