আগামী আগস্ট মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী অক্টোবরের শুরুর দিকে ভোট গ্রহণ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। তবে স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সঙ্গে সমন্বয় রেখে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের জন্য আলাদা আলাদা আইন-বিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় প্রতীক সংরক্ষণ আইনও সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব আইন-বিধির খসড়া প্রণয়নের কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন।
ইসি জানিয়েছে, চলতি জুনের মধ্যে খসড়াগুলো সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং জনমতের জন্য ১৫ দিন উন্মুক্ত রাখা হবে। এরপর কমিশন সভায় অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে পাঠানো হবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে জুলাইয়ের মধ্যে সব আইন ও বিধির সংস্কার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম ক্রয় ও মজুদ শেষে আগস্টে অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট গ্রহণের এক থেকে দেড় মাস আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে আগস্টে তপশিল হলে নির্বাচন গড়াবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। কোন নির্বাচন আগে হবে তা নির্ভর করছে সরকারের সঙ্গে আলোচনার ফলাফলের ওপর। তিনি জানান, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়। বর্ষা মৌসুমের পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আগে পরিকল্পনায় থাকলেও রাজনৈতিক দলসহ অংশীদারদের সঙ্গে সংলাপে বসছে না ইসি। সময়ের অভাব ও আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় সংলাপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। তবে সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়ার মাধ্যমে সব অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত ও সুপারিশ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসার পর ইসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করে কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেট চাহিদা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। সংস্থাটি জানায়, সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে মোট প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২ হাজার ৯০০ কোটি, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২ হাজার কোটি, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৩০ কোটি এবং পৌরসভা নির্বাচনে ৩০০ কোটি টাকার চাহিদা রয়েছে।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) শামসুল হক ফৌজদার জানান, চলতি অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত বরাদ্দের অঙ্ক বাজেট পেশের দিন জানা যাবে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা এবং সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়িয়ে কৃচ্ছ্রতার নীতি অনুসরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:








