বুধবার

১০ জুন, ২০২৬ ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ০৭:৩২

শেয়ার

বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়। সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন, যার মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশি পরিচয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে ‘পুশইন’ করার অভিযোগের মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার অবৈধ ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে নিয়মতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণের নীতি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ভারত সরকারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেসবের সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকার বিষয়টি অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ট্যুরিস্ট বা ব্যবসায়িক ভিসায় এসে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও দেশে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বিগত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, অধিকাংশ ভারতীয় নাগরিক বৈধ ট্যুরিস্ট, ব্যবসায়িক বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তারা দেশে ফিরে যান না। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্প, টেক্সটাইল, বায়িং হাউস, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের পদে কর্মরত অনেক ভারতীয় নাগরিকের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট কিংবা আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের একটি অংশ হুন্ডিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ নিজ দেশে পাঠিয়ে থাকে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বৈধ কর্মঅনুমোদন না থাকায় সরকারের রাজস্ব আয় থেকেও তারা বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

খাতভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয়দের অর্ধেকেরও বেশি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে নিয়োজিত। তারা প্রধানত সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় মার্চেন্ডাইজার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, ওয়াশিং ও ডাইং বিশেষজ্ঞ এবং ফ্লোর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন।

এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বায়িং হাউসে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মাননিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাতেও তাদের উপস্থিতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সমন্বয়ে বিদেশি নাগরিকদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। স্বল্পমেয়াদি ভিসায় এসে যাতে কেউ কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে না পারে, সে জন্য ভিসা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও আরও কঠোর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় বা সহযোগিতা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close