সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও ছড়ানো রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১-এ উত্থাপিত জরুরি নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইনে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার সুযোগ নেই। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সেই বিধান যুক্ত করা হবে।
নোটিশটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান। তিনি জানান, ভুয়া পরিচয়ের অ্যাকাউন্ট, বট নেটওয়ার্ক এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানিও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর কিছু ধারা সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন আইনে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে। এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হবে। একই সঙ্গে বিটিআরসি, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা দেওয়া হবে।
পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হলেও বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে সে সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অনলাইন জুয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে এখনো ১৮৬৭ সালের আইনে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইন জুয়া প্রতিরোধে প্রস্তাবিত 'জুয়া প্রতিরোধ আইন' প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত এবং চলতি অধিবেশনেই তা সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।
আরও পড়ুন:








