রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিশেষ বৃত্তিতে মেডিকেল শিক্ষার সুযোগ এবং উপযুক্ত সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের লিগ্যাল টিমের সদস্য আইনজীবী শিশির মনির শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির বলেন, ঘটনাটির পর হাসপাতাল পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে। এসব পর্যালোচনার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দীর্ঘমেয়াদে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল।
তিনি জানান, নিহত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যরা, অর্থাৎ মা-বাবা ও ভাই-বোনেরা, জীবিত থাকা পর্যন্ত আদ-দ্বীন হাসপাতালে ওষুধ ব্যতীত সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে পাবেন। এছাড়া এসব পরিবারের উপযুক্ত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের মেডিকেল কলেজগুলোতে বিশেষ বৃত্তির আওতায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পরিবারের যোগ্য সদস্যদের হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়।
শিশির মনির বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এ ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত অবহেলার ফল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ কারণে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাক, এমনটি তারা চান না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি প্রচলিত আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে বলে জানান তিনি।
শিশির মনির বলেন, অতীতেও প্রতিবেশী ভারতে হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান ঘটনাটিও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল তুলনামূলকভাবে কম খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে মর্মাহত এবং দুঃখ প্রকাশ করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে শিশির মনির বলেন, হারিয়ে যাওয়া জীবন ফিরিয়ে দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তবে মানবিক ও নৈতিক দায়িত্বের জায়গা থেকে যা যা করা সম্ভব, তার সবকিছু করতে আমরা প্রস্তুত।
আরও পড়ুন:








