বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের দশটি পৃথক অবৈধ পুশইন প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিজিবির ৫৮ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকায় ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয় এবং তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। একই উপজেলার সামন্তা বিওপি এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল ও স্থানীয় জনসাধারণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের পুনরায় ভ্যানে তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
যশোরে বিজিবির ২১ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতার ফলে বিএসএফ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
জয়পুরহাটে বিজিবির ২০ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় দশ জন ব্যক্তিকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। বিজিবির তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ফলে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে ১৪৯ ও ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পের নিকটবর্তী তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে এনআরসির এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া চার জন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বিজিবি সেখানে কঠোর অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির ৫০ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে ৮৭ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহলদল দুই জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিজিবির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।
পঞ্চগড়ে বিজিবির ১৮ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক এক জন ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে অবহিত করে। বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে ভারতে ফেরত পাঠায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার ইংলিশ বাজার থানার চন্দনপার্ক এলাকায় ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক স্থাপিত একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশইনের লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। বিজিবির ৫৯ মহানন্দা ব্যাটালিয়ন সেখানে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
সিলেটে বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই জন ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
নেত্রকোনায় বিজিবির ৩১ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানার বলিশী গীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তিকে পুশইনের উদ্দেশ্যে একত্রিত করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্তের একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই এলাকা দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা বিবেচনায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন:








