মঙ্গলবার

৯ জুন, ২০২৬ ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

হজ ফ্লাইটে লাগেজ চুরির দাবি নাকচ করল বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ জুন, ২০২৬ ২০:২৯

শেয়ার

হজ ফ্লাইটে লাগেজ চুরির দাবি নাকচ করল বিমান
ছবি সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের প্রায় দেড়শো যাত্রীর লাগেজ কেটে মালামাল চুরির যে অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমাদ স্বাক্ষরিত এক সত্যতা যাচাই ও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ, বডি-ওর্ন ক্যামেরার ভিডিও এবং অফিসিয়াল লগবুক পর্যালোচনা করে লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের চুরি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ জুন দিবাগত রাতে জেদ্দা থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট বিজি ৩১০৪ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রাত ২টা ৫২ মিনিটে উড়োজাহাজটি নির্ধারিত অবস্থানে পৌঁছানোর পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে লাগেজ খালাসের কাজ শুরু হয়। রাত ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম লাগেজ বেল্টে পৌঁছায় এবং ৩টা ৫১ মিনিটের মধ্যে মোট ৮৩৬টি লাগেজ ডেলিভারি বেল্টে পৌঁছে দেওয়া সম্পন্ন হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানোর পুরো প্রক্রিয়া বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ও তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। সিসিটিভি এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সৌদি আরব থেকেই অন্তত ২১টি লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হ্যান্ডলিং স্টাফদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কের রেকর্ডেও বড় কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি।

কিছু যাত্রী মৌখিকভাবে লাগেজ ক্ষতির অভিযোগ করলেও সেগুলোতে মূলত জমজমের পানি, শ্যাম্পু, লোশন ও খেজুর ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। একজন যাত্রী মানিব্যাগ হারানোর অভিযোগ করলেও তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেননি।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী বুক করা লাগেজে তরল পদার্থ, জমজমের পানি এবং কিছু প্রসাধনসামগ্রী বহন নিষিদ্ধ। জেদ্দা বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় এসব সামগ্রী শনাক্ত হলে নিরাপত্তা বিধি অনুসারে লাগেজ খুলে পরীক্ষা করা হয়। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অনেক সময় ভুলভাবে লাগেজ কাটা বলে ব্যাখ্যা করা হয়।

এর আগে বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশের ছেলে, যিনি একজন হজযাত্রীর স্বজন, ফেসবুকে একটি পোস্টে দাবি করেন যে উক্ত ফ্লাইটে আসা প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কাটা হয়েছে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। পোস্টটিতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজের ছবিও যুক্ত করা হয়, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।



banner close
banner close