চলতি জুন মাস থেকেই বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ৩ জুন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে। এবার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বিইআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ৩ জুন ঘোষণা না এলেও ৪ জুনের মধ্যে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসবে। নতুন মূল্যহার চলতি জুন থেকেই কার্যকর হবে। তবে কত শতাংশ দাম বাড়ানো হবে, তার চূড়ান্ত হিসাব এখনো শেষ হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী এ মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় এবং বিইআরসির মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী দাম বাড়ানোর সুপারিশ করে।
গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে পিডিবি ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। বিইআরসির কারিগরি দল গড়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
ব্যবহারের পরিমাণভেদে দাম বৃদ্ধির হার ভিন্ন হবে। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য তুলনামূলক কম হারে দাম বাড়ানো হবে। ২০০ থেকে ৪০০ এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য পর্যায়ক্রমে বেশি হারে দাম বাড়বে। ৬০০ ইউনিটের অধিক ব্যবহারকারীদের ওপর সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি আরোপিত হবে।
লাইফলাইন বা দরিদ্র গ্রাহক অর্থাৎ শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিলের স্ল্যাবে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে বিইআরসির ওই কর্মকর্তা জানান, সামান্য বাড়তি বিল এই গ্রাহকদেরও বহন করতে হতে পারে। বর্তমানে এ শ্রেণির গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০ জন।
গণশুনানিতে ভোক্তা প্রতিনিধিরা বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ না করে দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেন। তারা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় সংস্থাটির ৬৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দেবে পিডিবি। দাম বৃদ্ধির ফলে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা আদায় সম্ভব হলেও সংস্থাটির বড় ঘাটতি থেকে যাবে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের মোট গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৪৮১ জন, যার মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ১২১ জন।
আরও পড়ুন:








