শনিবার

৩০ মে, ২০২৬ ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রত্যাহারে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার চিঠি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬ ১২:৫২

আপডেট: ৩০ মে, ২০২৬ ১২:৫৫

শেয়ার

জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রত্যাহারে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার চিঠি
ছবি সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় যে তথ্য প্রকাশ করেছিল, তা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক আইনি উপদেষ্টা।

লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের আইনি পরামর্শক স্টিভেন পাউলেস গত ২৮ মে শেখ হাসিনার পক্ষে এই চিঠিটি পাঠান। চিঠিতে জাতিসংঘের ওএইচসিএইচআর কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভ সংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহার শীর্ষক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে উল্লিখিত নিহতের সংখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

চিঠিতে স্টিভেন পাউলেস উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব সরকারি নথির ভিত্তিতেই স্পষ্ট হয় যে ওই সময় ১ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার জাতিসংঘের দাবিটি ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারকে সহিংসভাবে উৎখাতের বিষয়টিকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।

যুক্তির পক্ষে শেখ হাসিনার আইনি দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গত বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য তুলে ধরেছেন। ওই গেজেটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত হিসেবে মোট ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, যা জাতিসংঘের দাবিকৃত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসেবেও নিহতের সংখ্যা ৬৫০ জন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অতিরঞ্জিত নিহতের সংখ্যা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গণহত্যার আদেশদাতা হিসেবে উপস্থাপন করে তার সরকারের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলনকে বেগবান করতে এই তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার আইনি দল জাতিসংঘের তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, তদন্তটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছিল, যে সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শেখ হাসিনার আইনি দল সেই বিচারিক প্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

চিঠির শেষাংশে স্টিভেন পাউলেস ওএইচসিএইচআরকে অবিলম্বে ১ হাজার ৪০০ নিহতের তথ্যটি জনসমক্ষে প্রত্যাহার ও সংশোধন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই চিঠির বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি



banner close
banner close