মঙ্গলবার

২৬ মে, ২০২৬ ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

লাব্বাইক লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাত ময়দান

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬ ০৯:৪৩

আপডেট: ২৬ মে, ২০২৬ ০৯:৫৫

শেয়ার

লাব্বাইক লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর হবে আরাফাত ময়দান
ছবি সংগৃহীত

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আজ মঙ্গলবার ৯ জিলহজ সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে অবস্থান করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হজযাত্রী। ইসলামি পরিভাষায় এই দিনটি ইয়াওমে আরাফাহ বা আরাফাত দিবস নামে পরিচিত।

হজের বিধান অনুযায়ী আজ সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। দুপুরে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রচার করা হবে। এবার খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। খুতবাটি বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে। খুতবার পর হজযাত্রীরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন।

আজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত ময়দান থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। আগামীকাল ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে বড় জামারায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। এরপর পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার পর ইহরাম খুলে সাধারণ পোশাক পরিধান করবেন এবং তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করবেন। একই দিন সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। পর্যায়ক্রমে ১১ ও ১২ জিলহজ জামারায় পাথর নিক্ষেপসহ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।

এর আগে গত সোমবার মিনায় তাঁবুতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে ইহরাম পরিধান করে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার উদ্দেশে রওনা দেন হজযাত্রীরা। আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আরাফাত ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তাঁরা।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার মুসলমান হজ পালন করছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকিরা বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে গেছেন। হজ পালনের আগে এ পর্যন্ত ২৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন, যার মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সার্বিক সেবা নিশ্চিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের হজ মনিটরিং টিম সৌদি আরবে অবস্থান করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও এ বছর ১৫ লাখের বেশি বিদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন, যা গত বছরের বিদেশি হজযাত্রীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। সৌদি আরবের হজ পাসপোর্ট ফোর্সের কমান্ডার সালেহ আল-মুরাব্বা গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীর মোট সংখ্যা ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫৩ জনে পৌঁছেছে। গত বছর মোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন হজ পালন করেছিলেন, যার মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে এসেছিলেন ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন।

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাপজনিত অবসাদ, সানস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা এড়াতে রোদছাতার সর্বোত্তম ব্যবহার, প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং দুপুরের তীব্র গরমে হাঁটাচলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। একটি রোদছাতা চারপাশের তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে সক্ষম বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে। গরম আবহাওয়া মোকাবিলায় মিনা ও আরাফাত এলাকায় পানির সূক্ষ্ম কুয়াশা ছড়ানোর ব্যবস্থা করেছে সৌদি সরকার। স্বেচ্ছাসেবকরা হজযাত্রীদের মধ্যে ঠান্ডা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং মিনার তাঁবুগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের তীব্র গরমে সতর্কতা অবলম্বন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হজ সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার ফরজ। হজের তিনটি ফরজ কাজ হলো ইহরাম বাঁধা, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা এবং তাওয়াফে জিয়ারাহ সম্পন্ন করা। আরাফাত ময়দানে অবস্থিত ঐতিহাসিক জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ের পাদদেশে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।



banner close
banner close