রাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া গেলে ঈদুল আজহার পরই মামলার বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মামলাটির বিচার অগ্রাধিকারভিত্তিতে সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল শীর্ষক মতবিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, এ ধরনের মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে ডিএনএ রিপোর্ট প্রস্তুত করতে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। দ্রুত সময়ে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে এবং এরপর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
একই অনুষ্ঠানে নেত্রকোনায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগের বিষয়েও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘটনাটি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আইনগত সহায়তা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক বিধান চিহ্নিত হলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপপরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন এবং সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব।
মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন:








