বুধবার

১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার ও দলীয় প্রতীক বাতিল, অক্টোবর থেকে ভোটের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬ ১৩:৫৯

শেয়ার

স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার ও দলীয় প্রতীক বাতিল, অক্টোবর থেকে ভোটের পরিকল্পনা
ছবি সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু যুগান্তকারী সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে এই নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে।

সংশোধিত বিধিমালায় স্থানীয় নির্বাচনে সব ধরনের কাগজের পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও নির্বাচনী ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনুরূপ। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হচ্ছে।

ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আসছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে সনাতন ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধানটিও রহিত করা হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতাও তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে কমিশনার জানিয়েছেন।

প্রার্থীদের জামানতের বিষয়ে কমিশনার জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে বর্ধিত জামানতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি। প্রবাসী বা পোস্টাল ভোটের কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না এবং ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি প্রার্থিতার সুযোগ পাবেন না।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে চারটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। এগুলো হলো সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সততা ও সাহস। নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু আইনের প্রয়োগ দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা কঠিন, এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি একান্ত প্রয়োজন। দলগুলোর উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, খেলোয়াড় যদি সারাদিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে, তাই দলগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা জালিয়াতি ধরা পড়লে প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসাররা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা রাখেন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালা আগামী জুন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার পরপরই খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কমিশনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।



banner close
banner close